কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ
গাজীপুরের কালীগঞ্জে ব্যবসায়ী হানিফ কাজী দূবৃর্ত্তদের হামলার স্বীকার হয়। ছিনাতাইকারীদের সাথে ধস্তাধস্তির এক পর্যায় নিজের জীবন বাঁচাতে গিয়ে ছিনাতাইকারী সদস্য ছুরিকাঘাতে ছিতাইকারী ইলিয়াস শেখ নিহত হয়। এ ঘটনায় কারাগারে দিন কাটছে ব্যবসায়ী হানিফ কাজী।
৩১ জানুয়ারী রাতে উপজেলার কুড়িল্লারটেক টেক ব্রীজ সংলগ্ন রাস্তায় ঘটনাটি ঘটে।
১ ফেব্রুয়ারী সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৪ শত ফুট দূরে ডুবায় পানিতে লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা। খবর পেয়ে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে রাজমিন্ত্রী (ছিনতাইকারীর) লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকার জনসাধারণ মাঝে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে মঞ্জুর শিকদার, আবুল হোসেন, জাকির হোসেন, বাতেন, আবুল হাসেম, জলিলুর ইসলাম, শুভ্রত দাস, সুমন, ইসমাইল, আনোয়ারসহ দোলান বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী ও ইউপি সদস্য আব্দুল মান্নান বলেন, ব্যবসায়ী হানিক কাজী বাড়ি যাওয়ার পথে প্রায় সময়ই ছিনতাইকারীরা ওই রাস্তায় হামলা করতো। সে সুনামের সাথে দির্ঘদিন যাবৎ বাজারে ব্যবসা করে আসছে। সুবিধাভোগীরা সুকৌশলে পরিকল্পিত ভাবে রাজমিন্ত্রী ইলিয়াসকে হত্যা করে। পরে ওই হত্যার দায় হানিফ কাজীকে ফাসানোর চেষ্টা করেছে। ৩৫ বছর ব্যবসায়ীক সময়ে সে কোন অপরাধ মূলক কাজে জড়িত ছিল না। প্রকৃত ঘটনাকে তদন্ত করে আসামীদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান স্থানীয়রা।
দূবৃর্ত্তের হামলায় ব্যবসায়ী হানিফ কাজী আহত হয়ে প্রাণ রক্ষা করে পার্শবর্তী ছৈলাদী গ্রামের নাহিদের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। পরে স্থানীয়রা তাকে আহতবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।
এ ব্যাপারে হানিফ জানান, কুড়িল্লারটেক ব্রীজ এলাকায় প্রায় সময় মাদক ব্যবসায়ী ও ছিনতাইকারীরা অবস্থান করতো। ইতিপূর্বে আমিসহ অনেকেই ছিনতাইকারীদের কবলে পরে। ৩১ জানুয়ারী রাতে অজ্ঞাত নামা দূর্বৃত্ত্বদের সাথে ধস্তাধস্তির এক পর্যায় আমাকে ডুবায় ফেলে দেয়। সেখান থেকে রাস্তার উঠার পর দূবৃত্তরা হত্যার উদ্ধেশ্যে আমাকে ছুড়িকাঘাত করলে আমি সরে যাই। ওই ছুড়িকাঘাত তাদের একজনের গায়ে লাগে। পুনরায় আঘাত করলে আমি কৌশলে তাদের হাত থেকে একটি ছুরি নিয়ে পালিয়ে যাই।
এদিকে নিহতের স্ত্রীসহ তার মা লাইলী বেগম বলেন, আমার ছেলের কোনো শত্রু ছিল না। কে বা কাহারা ছেলেকে হত্যা করেছে। আমি এ হত্যার বিচার চাই।
কারাবাসত ব্যবসায়ী হানিফ কাজীর স্ত্রী ইয়াছমিনসহ স্বজনরা জানান, আমার স্বামী দোকান বন্ধ করে ক্যাশ টাকা নিয়ে বাই সাকেল দিয়ে বাড়ি আসার পথে দূর্বৃত্তরা কুড়িল্লারটেক ব্রীজের কাছে আসলে পথ রুদ্ধ করে নগদ টাকা নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় দুর্বৃত্তদের সাথে দস্তাদস্তি হলে এক পর্যায় ছুরিকাঘাতে তাদের একজনের গায়ে লাগে।
কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন বলেন, নিহত ইলিয়াছ এলাকার দুস্কৃতিকারী ও মাদক ব্যবসায়ী ছিল। গ্রেফতারকৃত হানিফ কাজী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ঐদিন হয়তো আমি মারা যাইতাম। নিজের জীবনেকে বাজি রেখে ছিনতাইকারীদের সাথে ধস্তাধস্তি করে তাদের কাছ থেকে ছুরি নিয়ে আঘাত করি।